আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও, লুটপাট শুরু হয়। ক্ষোভের শিকার হয় পুলিশও। আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বিভিন্ন থানা। হামলার শিকার হন পুলিশ সদস্যরা। এক পর্যায়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন তারা। পরে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আশ্বাসে এক সপ্তাহ পর দায়িত্বে ফেরে পুলিশ। এরও প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও কিছু থানায় পোড়া গন্ধ রয়ে গেছে। মানসিকভাবেও ক্ষত কাটিয়ে উঠতে পারছেন না পুলিশ সদস্যরা। ভয়ে অনেকে পরেননি পুলিশের ইউনিফর্মও।
গত বৃহস্পতি (২২ আগস্ট) ও শুক্রবার এ দুদিন ঢাকা মহানগর এলাকার কয়েকটি থানা সরেজমিন ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা এমনই চিত্র দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার পর পল্টন থানায় গেলে দেখা যায়, থানার প্রধান ফটকের ওপরের সাইনবোর্ডটি এখনও ছেঁড়া। সেখান থেকে সামনের দিকে কয়েক পা বাড়ালে দেখা যায় আরও খারাপ অবস্থা। চার তলা ভবনটির পুরো দেয়ালজুড়ে কয়লার মতো কালো কালো ছাপ। আর ভবনের ভেতরে কোনও কিছুই অবশিষ্ট নেই। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো ভবন। আগুনে পোড়া গন্ধ থানার চারপাশে এখনও বাতাসে ছড়াচ্ছে। শুধু পল্টন থানা নয়, এ চিত্র দেখা যায় ডিএমপির মোহাম্মদপুর আদাবর থানায়ও।
পল্টন থানায় পুড়ে যাওয়া ভবনের বারান্দায় থানার একজন ডিউটি অফিসার বসে আছেন। আর ভবনটির উল্টো পাশে একটি টিন শেডের ছাউনিতে সদ্য নিয়োগ পাওয়া অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি), পুলিশ পরিদর্শক তদন্তসহ এসআই পদ মর্যাদায় আরও কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখা গেলো। মামলা অভিযোগ কম থাকায় অনেক অবসর সময় কাটাতেও দেখা গেছে। এদের দুয়েকজন পুলিশের পোশাক পড়লেও বাকিরা ছিলেন সিভিল ড্রেসেই।
সেখানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপপরিদর্শক (এসআই) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের থানায় কোনও কিছু নেই। সবকিছু ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। তিনি বলেন, ডিউটি অফিসার বসে আছে যে চেয়ারটা দেখছেন, সেটাও বাইরের একজন লোক এসে দিয়ে গেছে। যেহেতু থানায় কোনও কম্পিউটারও নেই, তাই হাতে-কলমেই আপাতত কাজ করা হচ্ছে।
সদ্য নিয়োগ পাওয়া পল্টন থানার ওসি মোল্লা মো. খালিদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পুলিশকে বর্তমান যেমন দেখছেন, পুলিশ কি এমন? না, এরকম না। এখনও পুলিশ সদস্যরা ট্রমার মধ্যে আছে। তবুও আমরা দ্রুতই আগের অবস্থায় ফিরবো আশা করি। সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।
এর আগে বিকাল ৪টার দিকে শাহবাগে থানায় গেলে দেখা যায়, সেনা নিরাপত্তায় কার্যক্রম চলছে। থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষটি সচল থাকলেও অফিসার্স ইনচার্জ, পরিদর্শক তদন্ত ও অপারেশন তাদের কক্ষ তালাবদ্ধ দেখা গেছে।
খোলা মাঠে থানায় চারপাশে আঙিনায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বসে থাকতে দেখা গেছে। সেখানে হারানো জিডি ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনও অভিযোগ কিংবা মামলা দায়ের হয়নি।
শাহবাগ থানায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন থানার সিনিয়র এসআই মাইনুল ইসলাম পুলক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চারজন ছাড়া সবাই নিয়মিত অফিস করছে। আমাদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়নি। এখনও আমাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হওয়ায় ভয় একটু বেশি কাজ করছে। থানার অধিকাংশ কর্মকর্তাই পোশাক ছাড়া সিভিলে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, জরুরি যে কাজগুলো আছে বর্তমানে সবই চলছে। তবে মামলা কম আসছে। আজ শুধু একটি ডাকাতি মামলা দায়ের হলো। তবে জিডি হচ্ছে প্রচুর।
এদিকে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যায় রমন থানায়। থানাটির তেমন ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় ব্যস্ততা দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের। থানার ডিউটি অফিসারকেও ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেলো। লোকজন থানায় বিভিন্ন হারানোর জিডি করতে আসলেও অভিযোগ ও মামলার সংখ্যা একেবারে সীমিত।
এর আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অভ্যুত্থানকে ঘিরে ৫ আগস্ট দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর রাজধানীসহ সারাদেশের সকল থানাগুলো পুলিশশূন্য হয়ে পড়ে। এরপর শুধু থানা নয় একে একে পুলিশের সব ইউনিটের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তাহীনতায় কর্ম বিরতিরও ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। পরে প্রায় চার দিন পর শুক্রবার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে রাজধানীর প্রতিটি থানায় পুলিশ সদস্যদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন ও কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন নতুন আইজিপি মো. ময়নুল ইসলাম। সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধান ও নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা থানায় আসেন। এরপর গত ১৫ আগস্ট রাজধানীসহ সারা দেশের সব থানায় অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়।
👇Comply with extra 👇
👉 bdphone.com
👉 ultraactivation.com
👉 trainingreferral.com
👉 shaplafood.com
👉 bangladeshi.assist
👉 www.forexdhaka.com
👉 uncommunication.com
👉 ultra-sim.com
👉 forexdhaka.com
👉 ultrafxfund.com
👉 ultractivation.com
👉 bdphoneonline.com
