Tuesday, July 23, 2024

তুলা চাষে ভালো ফলনেও হতাশ লালমনিরহাটের কৃষক


বস্ত্র শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল তুলা হলেও চাহিদার তুলনায় তুলার চাষাবাদ কম। তাই বস্ত্র তৈরির এই কাঁচামালের জন্য নির্ভরতা আমদানির উপর। 

সুখবর এই যে, এবছর লালমনিরহাটে তুলার আবাদ বেড়েছে। আর উৎপাদিত এ তুলার মানও আন্তর্জাতিক মানের। অথচ তিক্ত সত্য হচ্ছে, সারসহ তুলা চাষে ব্যবহৃত জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। তাই আবাদে খরচও অনেক বেড়েছে। এ অবস্থায় গত বছরের তুলনায় মণ প্রতি তুলার দাম ১০০ টাকা বাড়লেও খুশি হতে পারেনি তুলা চাষিরা। গত বছর প্রতি মণ তুলা (আঁশ ও বীজ) বিক্রি হয়েছিল ৩৮০০ টাকা দরে। এ বছর প্রতি মণ তুলার দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। এতে উৎপাদিত তুলা বিক্রি করে আশানুরূপ লাভ করতে পারছেন না বলে হতাশ চাষিরা। 

তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, এ বছর লালমনিরহাটে ৫৩০ জন কৃষক ১৫৪ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করেছেন। গত বছর ৫০০ কৃষক তুলা চাষ করেছিলেন ১৪২ হেক্টর জমিতে। অন্যদিকে গত বছর সারাদেশে ৪৫,১৫০ হেক্টর জমিতে তুলা উৎপাদন হয়েছিল ২,১০,০০ বেল। এবছর তুলা চাষ হয়েছে ৪৬,০০০ হেক্টর জমিতে আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২,২৮,০০০ বেল।

লালমনিরহাটে চর কটন ও আপলাইন কটন জাতের তুলা চাষ হচ্ছে। এসব জাতের তুলা প্রতিবিঘা জমি থেকে আঁশ ও বীজসহ ১৫ থেকে ১৮ মণ উৎপাদন করছেন। এ বছর আঁশ ও বীজসহ প্রতিমণের দাম নির্ধারণ হয়েছে ৩,৯০০ টাকা। চাষিদের উৎপাদিত প্রতিমণ তুলা থেকে আঁশ পাওয়া যায় ১২ কেজি আর বীজ ২৮ কেজি। গত বছর প্রতি মণ তুলা (আঁশ ও বীজ) বিক্রি হয়েছিল ৩, ৮০০ টাকা দরে। এ বছর প্রতি মণ তুলার দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। তুলার ভালো ফলনের কারণে জেলায় বাড়ছে তুলাচাষীর সংখ্যা। তবে বীজ, সার, কীটরনাশক ও ডিজেলের দাম বাড়ায় তুলাচাষে খরচও বেড়েছে। প্রতিমণ তুলা ৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে প্রত্যাশিত লাভ হবে দাবি করছেন কৃষকরা। 

তুলা চাষিরা জানান, জানান, এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে তুলা উৎপাদিত হয়েছে ১৪-১৬ মণ। এতে খরচ হয়েছে ১৬-২০ হাজার টাকা। গত বছর খরচ হয়েছিল ১১-১৪ হাজার টাকা। তুলা চাষের জন্য উঁচু জমির প্রয়োজন। সময় লাগে আট মাস (মধ্য জুলাই থেকে মধ্য মার্চ)। স্বল্পমেয়াদী জাতের তুলা চাষের সুযোগ পেলে তারা জমিতে অন্য ফসল উৎপাদনের সুযোগ পেতেন। 

লালমনিরহাট সদর উপজেলার চওড়াটারী গ্রামের তুলা চাষি মনজুর আহমেদ জানান, গত বছর থেকে তারা হাইব্রিড জাতের তুলা চাষ করছেন। দুই বছর আগে স্থানীয় জাতের তুলা চাষ করে কম ফলন পেয়েছিলেন। 

মনজুর বলেন, আমরা তুলার ফলন পাচ্ছি আশানুরূপ। কিন্তু বাজারদর নিয়ে হতাশ। প্রতি মণ তুলা পাঁচ হাজার টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে প্রত্যাশিত লাভ পেতাম। 

একই উপজেলার জিরামপুর গ্রামের তুলা চাষি জুয়েল হোসেন বলেন, তুলা চাষ লাভজনক। খাদ্যশস্য উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা অধিক, তাই কম পরিমাণ জমিতে তুলা চাষ হচ্ছে। স্বল্পমেয়াদী জাতের তুলা চাষের সুযোগ পেলে চাষিরা আরও আগ্রহী হতেন। ৩-৪ মাসের মধ্যে তুলা উৎপাদন করতে পারলে জমিতে দুই ধরনের ফসল চাষ করতে পারতাম। বর্তমানে তুলা কর্তনের পর জমিতে এক ধরনের ফসল চাষ করতে পারছি।

লালমনিরহাট তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কটন ইউনিট অফিসার রেজাউল জানান, দেশে প্রতিবছর তুলার চাহিদা রয়েছে প্রায় ৮৫ লাখ বেল। প্রতি বছর প্রায় ৮৩ লাখ বেল তুলা আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে। এতে খরচ হয় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, তুলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। তুলা চাষের জমিতে সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন শাক-সবজি চাষের চর্চা শুরু হয়েছে। এতে সফলতাও পেয়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে তুলাচাষিদের ৯০ শতাংশ কৃষকই হাইব্রিড জাতের তুলা চাষ করছেন। ১০ শতাংশ কৃষক স্থানীয় জাতের তুলা চাষ করছেন। আমাদের উৎপাদিত তুলা আন্তর্জাতিক মানের। আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের তুলা চাষের পদ্ধতি শেখাচ্ছি।



Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles